গরুর স্বাস্থ্য২ মিনিটে পড়ুন
গরুর টিকার সময়সূচি: ক্ষুরা, গলাফোলা, বাদলা, তড়কা ও লাম্পি স্কিন
গরু ও বাছুরকে কোন টিকা, কোন বয়সে, কতদিন পর পর দিতে হয় এবং টিকা যাতে সত্যিই কাজ করে তার সহজ নিয়ম। সাথে সারা বছরের পরিকল্পনা।
একবার ক্ষুরা রোগ ছড়ালে দুগ্ধ খামারের দুধ কয়েক সপ্তাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ছোট বাছুরও মারা যেতে পারে। একটা টিকার দাম কয়েক টাকা, কিন্তু চিকিৎসা আর নষ্ট দুধের দাম হাজার হাজার টাকা। এই লেখায় সারা বছরের একটা পরিষ্কার টিকা পরিকল্পনা দেওয়া হলো।
টিকার ব্র্যান্ড, মাত্রা ও সময়সূচি এলাকাভেদে আলাদা হতে পারে। সবসময় আপনার উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বা নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের সাথে মিলিয়ে নিন। সরকারি টিকা ক্যাম্পেইনের খবরও তাঁরাই দেবেন।
গরুর প্রধান টিকাগুলো
| রোগ | প্রথম ডোজ | পরের ডোজ |
|---|---|---|
| ক্ষুরা রোগ (FMD) | বাছুরের ৪ মাস বয়সে, ৩–৪ সপ্তাহ পর বুস্টার | প্রতি ৬ মাস পর পর |
| গলাফোলা (HS) | বাছুরের ৬ মাস বয়সে | প্রতি বছর, বর্ষার আগে |
| বাদলা (BQ) | বাছুরের ৬ মাস বয়সে | প্রতি বছর, প্রায় ৩ বছর বয়স পর্যন্ত |
| তড়কা (Anthrax) | ৬ মাস বয়স থেকে | প্রতি বছর (যে এলাকায় আগে তড়কা হয়েছে সেখানে অবশ্যই) |
| লাম্পি স্কিন (LSD) | চিকিৎসকের পরামর্শমতো | প্রতি বছর, মশার মৌসুমের আগে |
টিকার সাথে কৃমিনাশক
কৃমি থাকলে পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তখন টিকাও ঠিকমতো কাজ করে না।
- বাছুর: জন্মের প্রথম মাসের মধ্যে প্রথম কৃমিনাশক, তারপর চিকিৎসকের পরামর্শমতো।
- বড় গরু: প্রতি ৩–৪ মাস পর পর, আর টিকার ৭–১০ দিন আগে অবশ্যই।
- বছরে একবার ওষুধের গ্রুপ বদলান, যাতে কৃমি ওষুধ-সহনশীল না হয়ে যায়।
টিকা কাজে লাগানোর ৭টি নিয়ম
- শুধু সুস্থ পশুকে টিকা দিন। জ্বর, পাতলা পায়খানা বা খাওয়া কম থাকলে সুস্থ হওয়ার পর দিন।
- ঠান্ডা ধারা (কোল্ড চেইন) বজায় রাখুন। টিকা ২–৮ °C তাপমাত্রায় রাখতে হয়। বরফের বাক্সে আনুন, পকেটে বা রোদে নয়।
- খোলা ভায়াল সেদিনই শেষ করুন। খোলা টিকা পরে কার্যক্ষমতা হারায়।
- সম্ভব হলে প্রতিটি পশুর জন্য আলাদা পরিষ্কার সুঁই ব্যবহার করুন, যাতে এক গরু থেকে অন্য গরুতে রোগ না ছড়ায়।
- বুস্টার ডোজ বাদ দেবেন না। ক্ষুরার প্রথম ডোজের পর বুস্টার না দিলে বাছুর ঠিকমতো সুরক্ষিত হয় না।
- পুরো পালকে একসাথে টিকা দিন। একটা টিকাবিহীন পশুই সবার জন্য রোগ নিয়ে আসতে পারে।
- গাভিন গাভীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শেষ মাসগুলোতে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
টিকার পরে
ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য ফোলা আর একদিন একটু কম খাওয়া স্বাভাবিক। পরিষ্কার পানি ও ছায়া দিন। শ্বাসকষ্ট, মুখ ফুলে যাওয়া বা পশু পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পশু চিকিৎসক ডাকুন।
সহজ বার্ষিক পরিকল্পনা
| মাস | কাজ |
|---|---|
| জানুয়ারি | পুরো পালের কৃমিনাশক |
| ফেব্রুয়ারি–মার্চ | ক্ষুরা (১ম রাউন্ড), তড়কা |
| এপ্রিল | কৃমিনাশক; বর্ষার আগে গলাফোলা ও বাদলা |
| মে | মশার মৌসুমের আগে লাম্পি স্কিন |
| জুলাই | কৃমিনাশক |
| আগস্ট–সেপ্টেম্বর | ক্ষুরা (২য় রাউন্ড) |
| অক্টোবর | কৃমিনাশক |
আপনার এলাকার রোগের মৌসুম ও সরকারি ক্যাম্পেইন অনুযায়ী মাস একটু আগে-পিছে করে নিন।
রেকর্ড রাখুন, নইলে ভুলে যাবেন
প্রতিটি পশুর টিকার তারিখ, টিকার নাম, ব্যাচ নম্বর আর পরের তারিখ লিখে রাখুন। FarmFlows-এ স্বাস্থ্য → রেকর্ড যোগ করুন খুলে টিকা বেছে পরের তারিখ দিন। কোন গরুর টিকা বাকি, অ্যাপ নিজেই ড্যাশবোর্ডে দেখাবে, তাই কোনো বুস্টার বাদ পড়বে না।
সংক্ষেপে চেকলিস্ট
- টিকার ৭–১০ দিন আগে কৃমিনাশক
- ক্ষুরা প্রতি ৬ মাসে, বাছুরের জন্য বুস্টারসহ
- গলাফোলা, বাদলা, তড়কা বছরে একবার, বর্ষার আগে
- লাম্পি স্কিন প্রতি বছর মশার মৌসুমের আগে
- টিকা ২–৮ °C-এ, শুধু সুস্থ পশুকে
- প্রতিটি ডোজ ও পরের তারিখ রেকর্ডে তুলুন