খামার ব্যবসা৩ মিনিটে পড়ুন
ভালো দুধেল গাভী কেনার নিয়ম: টাকা দেওয়ার আগে ১০টি যাচাই
ছোট দুগ্ধ খামারে সবচেয়ে বড় কেনাকাটা একটা গাভী। বয়স, ওলান, আসল দুধ, স্বাস্থ্য ও ইতিহাস: অন্যের সমস্যা যাতে টাকা দিয়ে কিনে না আনেন, তার ১০টি বাস্তব যাচাই।
হাটে গাভী কেনা প্রায়ই তাড়াহুড়োয় হয়: বিক্রেতার তাড়া, অন্য ক্রেতা আছে, আর গাভীর ওলান ভরা দেখায়। পরে অনেকে দেখেন দুধ কম, একটা বাঁটে সংক্রমণ, বা গাভী গর্ভধারণ করছে না। সময় নিন, আর সম্ভব হলে অভিজ্ঞ খামারি বা পশু চিকিৎসককে সাথে নিন।
১. পরিচিত জায়গা থেকে কিনুন
রেকর্ডসহ পরিচিত খামারের গাভী গত সপ্তাহে কেনা ব্যাপারীর গাভীর চেয়ে নিরাপদ। জিজ্ঞেস করুন কেন বিক্রি করা হচ্ছে। "গরু বেশি হয়ে গেছে" কোনো উত্তর না পাওয়ার চেয়ে ভালো উত্তর।
২. দাঁত দেখে বয়স যাচাই
গরুর ওপরের সামনের দাঁত নেই; নিচের সামনের দাঁত দেখুন। বাছুরের ছোট দুধদাঁত থাকে; চওড়া স্থায়ী দাঁত জোড়ায় জোড়ায় ওঠে:
| স্থায়ী সামনের দাঁত | আনুমানিক বয়স |
|---|---|
| ২টি | প্রায় ২ বছর |
| ৪টি | প্রায় ২.৫–৩ বছর |
| ৬টি | প্রায় ৩–৩.৫ বছর |
| ৮টি | প্রায় ৪ বছর বা বেশি |
ক্ষয়ে যাওয়া, ফাঁকা বা পড়ে যাওয়া দাঁত মানে বয়স্ক গাভী। প্রথম থেকে তৃতীয় দুধের মৌসুমের গাভী সাধারণত সবচেয়ে ভালো কেনা।
৩. দুবার দোহন দেখুন
সবচেয়ে প্রচলিত কৌশল হলো বিক্রির আগে দোহন না করে ওলান বড় দেখানো। সম্ভব হলে সন্ধ্যায় আর পরদিন সকালে দোহন দেখে দুধ মেপে নিন। সেটাই গাভীর আসল দৈনিক দুধ।
৪. ওলান পরীক্ষা
- চার ভাগ প্রায় সমান, শক্তভাবে লাগানো, খুব বেশি ঝুলে পড়া নয়
- দোহনের পরে নরম ও নমনীয় (দোহনের পরেও শক্ত, দলাদলা ওলান পুরনো ওলান ফোলার লক্ষণ)
- চারটা স্বাভাবিক আকারের বাঁট, সমান দূরত্বে, আঘাত নেই; প্রতিটি বাঁট দিয়ে দুধ আসে কি না দেখুন
- প্রতিটি বাঁটের প্রথম দুধ স্ট্রিপ কাপে দেখুন, সম্ভব হলে লুকানো ওলান ফোলার জন্য CMT পরীক্ষা করুন
৫. সাধারণ স্বাস্থ্য
- উজ্জ্বল চোখ, ভেজা নাক, সজাগ ও কৌতূহলী
- বিশ্রামে স্বাভাবিক শ্বাস, কাশি বা নাক দিয়ে পানি নেই
- চকচকে লোম; গুটি, ক্ষত বা দাদের দাগ নেই
- স্বাভাবিক গোবর, পাতলা নয়
- সম্ভব হলে তাপমাত্রা মাপুন: স্বাভাবিক প্রায় ৩৮–৩৯ °C
৬. হাঁটা দেখুন
বিক্রেতাকে গাভী হাঁটাতে বলুন। খোঁড়ানো, গিঁট ফোলা বা বড় হয়ে যাওয়া খুর খরচ বাড়ায়, দুধ কমায়।
৭. শরীরের অবস্থা
কোমরের হাড় বেরিয়ে থাকা রোগা বা খুব মোটা কোনোটাই নয়। খুব রোগা গাভী অসুস্থ বা কৃমিযুক্ত হতে পারে; খুব মোটা শুকনো গাভীর বাচ্চা দেওয়ার সময় ঝুঁকি থাকে।
৮. প্রজননের অবস্থা
- শেষ বাচ্চা কবে হয়েছে? পরেরটা কবে?
- কৃত্রিম প্রজনন হয়েছে কি, কতবার? অনেকবার লাগলে গর্ভধারণে সমস্যা থাকতে পারে।
- গাভিন বলা হলে, গাভিনের দাম দেওয়ার আগে চিকিৎসক দিয়ে গর্ভ পরীক্ষা করান।
৯. টিকা ও চিকিৎসার রেকর্ড
ক্ষুরা, গলাফোলা, বাদলা, তড়কা আর লাম্পি স্কিনের টিকা, কৃমিনাশক ও চিকিৎসার তারিখ চান। রেকর্ড না থাকলে কেনার পর কৃমিনাশক ও টিকা দিন।
১০. মেজাজ
নিজে দোহন করে দেখুন বা কাছ থেকে দেখুন। যে গাভী লাথি মারে, দুধ ছাড়ে না বা ঘরে আতঙ্কিত হয়, সে প্রতিদিনের কাজ কঠিন করে।
কেনার পরে
- ২–৩ সপ্তাহ পাল থেকে আলাদা রাখুন।
- কৃমিনাশক দিন, তারপর চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা।
- নতুন খাবার ধীরে ধীরে দিন।
- প্রথম দিন থেকেই সব লিখে রাখুন।
গাভীকে রেকর্ডের অংশ করুন
FarmFlows-এ গবাদিপশু পাতায় কেনার তারিখ ও দামসহ নতুন গাভী যোগ করুন, দামটা হিসাব পাতায় খরচ হিসেবে লিখুন, বিক্রেতার পুরনো ট্যাগ নোটে লিখুন, আর প্রথম দিন থেকেই দুধ লিখুন। এক মাস পরেই পরিষ্কার বুঝবেন দামটা ঠিক ছিল কি না।
সংক্ষেপে চেকলিস্ট
- পরিচিত উৎস; কেন বিক্রি জিজ্ঞেস করুন
- দাঁতে বয়স; প্রথম থেকে তৃতীয় মৌসুম আদর্শ
- দুবার দোহন দেখে মাপুন
- দোহনের পরে নরম ওলান, চারটা কার্যকর বাঁট, CMT
- সুস্থ, ঠিকমতো হাঁটে, মাঝারি শরীর
- প্রজনন ও টিকার ইতিহাস; চিকিৎসক দিয়ে গর্ভ পরীক্ষা
- কেনার পর ২–৩ সপ্তাহ আলাদা রাখা