লেয়ার মুরগি৩ মিনিটে পড়ুন
লেয়ার খামারের জৈব নিরাপত্তা: রোগ ঠেকানোর ১২টি নিয়ম
মুরগির বেশিরভাগ রোগ আসে জুতা, ডিমের ট্রে, গাড়ি আর বন্য পাখির সাথে। ছোট ও মাঝারি লেয়ার খামারের জন্য কম খরচের বাস্তব জৈব নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
টিকা কিছু রোগ থেকে বাঁচায়, কিন্তু সব রোগের টিকা নেই, আর রানীক্ষেত বা বার্ড ফ্লু ছড়ালে কয়েক দিনে পুরো ব্যাচ ও আয় শেষ হয়ে যেতে পারে। জৈব নিরাপত্তা মানে খামারে জীবাণু ঢুকতে না দেওয়া আর ভেতরে ছড়াতে না দেওয়া। এর বেশিরভাগেই খরচ খুব কম; দরকার শুধু নিয়ম মেনে চলা।
রোগ কীভাবে ঢোকে
- মানুষ: দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী, টিকাদানকারী আর নিজের কর্মীদের জুতা, কাপড় ও হাত
- বাজার বা অন্য খামার ঘুরে আসা ডিমের ট্রে ও খাঁচা
- গাড়ি: শেড পর্যন্ত চলে আসা খাবারের ট্রাক ও ডিমের ভ্যান
- বন্য পাখি, ইঁদুর ও মাছি
- অজানা স্বাস্থ্যের নতুন মুরগি
- পড়ে থাকা মরা মুরগি
১২টি নিয়ম
- একটাই গেট, সবসময় বন্ধ। খামারে বেড়া দিন, "অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ" লেখা টাঙান।
- প্রতিটি শেডের দরজায় ফুটবাথ, লেবেলের নিয়মে জীবাণুনাশক মিশিয়ে। প্রতিদিন বা ময়লা হলেই বদলান; কাদাভরা ফুটবাথ কোনো কাজ করে না।
- খামারের জন্য আলাদা জুতা ও কাপড়। কর্মীরা গেটে পোশাক বদলাবেন। চিকিৎসক ও দর্শনার্থীর জন্য কয়েক জোড়া বুট ও অ্যাপ্রন রাখুন।
- প্রতিটি শেডে ঢোকার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
- দর্শনার্থী কম। জিজ্ঞেস করুন সেদিন অন্য মুরগির খামার বা পাখির বাজারে গিয়েছিলেন কি না; গেলে ঢুকতে দেবেন না।
- বাজারের ডিমের ট্রে বাইরে। বাজার থেকে আসা পুরনো ট্রে কখনো শেডে আনবেন না। নিজের ট্রে বা ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা প্লাস্টিকের ট্রে ব্যবহার করুন।
- গাড়ি থামবে গেটে। খাবার ও ডিম সেখানেই ওঠানামা করুন, শেডের পাশে নয়।
- শেডে পাখি ঢুকতে দেবেন না। খোলা পাশে তারের জাল দিলে চড়ুই, কাক ও কবুতর ঢুকতে পারে না, যারা রোগ বহন করে।
- ইঁদুর ও মাছি নিয়ন্ত্রণ। খাবার ঢাকনাওয়ালা পাত্রে রাখুন, পড়ে থাকা খাবার পরিষ্কার করুন, বিষ্ঠা শুকনো রাখুন।
- একসাথে আনা, একসাথে বিক্রি। এক শেডে এক বয়সের মুরগি রাখুন। ব্যাচ বিক্রির পর লিটার সরিয়ে ধুয়ে, জীবাণুমুক্ত করে নতুন মুরগি আনার আগে অন্তত ২ সপ্তাহ শেড খালি রাখুন।
- মরা মুরগির ঠিক ব্যবস্থা। দিনে অন্তত দুবার সংগ্রহ করে শেড থেকে দূরে চুনসহ গভীর গর্তে পুঁতে ফেলুন বা পুড়িয়ে ফেলুন। কখনো পুকুর বা মাঠে ফেলবেন না।
- পরিষ্কার পানি। খোলা উৎসের পানি হলে শোধন করুন, পানির লাইন নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
ঠিক ক্রমে কাজ করুন
প্রতিদিন আগে সবচেয়ে কম বয়সী মুরগি, শেষে বয়স্কগুলো দেখুন, আর অসুস্থ মুরগির শেডে যান একদম শেষে। সম্ভব হলে অসুস্থ মুরগির জন্য আলাদা কর্মী রাখুন।
কিছু ভুল হলে
এসব দেখলে সাথে সাথে চিকিৎসক ডাকুন:
- হঠাৎ অনেক মুরগি মারা যাওয়া
- ডিম, খাবার বা পানি খাওয়া হঠাৎ কমে যাওয়া
- মাথা ফোলা, ঝুঁটি নীল, শ্বাসকষ্ট বা ঘাড় বেঁকে যাওয়া
বার্ড ফ্লু (এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা) সন্দেহ হলে জানাতেই হবে। দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করুন; আগে জানালে প্রতিবেশীর খামার আর আপনার ভবিষ্যতের ব্যাচও রক্ষা পায়।
এক পাতায় পরিকল্পনা লিখুন
গেটে এক পাতার সহজ পরিকল্পনা টাঙিয়ে দিন: কে ঢুকতে পারবে, কী করতে হবে আর কাকে ফোন করতে হবে। প্রত্যেক কর্মীকে এটা শিখিয়ে দিন।
স্বাস্থ্য ও ক্ষতির হিসাব রাখুন
FarmFlows-এ লেয়ার ব্যাচ → দৈনিক হিসাব থেকে প্রতিদিনের মৃত্যু আর মুরগির স্বাস্থ্য পাতায় প্রতিটি টিকা, ওষুধ ও জীবাণুমুক্তকরণ লিখুন। মৃত্যু বাড়া বা ডিম পাড়ার হার কমা প্রথম দিনেই চোখে পড়ে, আর তখন ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে সস্তা।
সংক্ষেপে চেকলিস্ট
- বেড়া, একটা গেট, সাইনবোর্ড
- প্রতি দরজায় ফুটবাথ, প্রতিদিন বদলানো
- খামারের জুতা ও কাপড়; হাত ধোয়া
- বাজারের ট্রে শেডে নয়; গাড়ি গেটে থামবে
- জাল, ইঁদুর ও মাছি নিয়ন্ত্রণ
- একসাথে আনা-বিক্রি, ২ সপ্তাহ খালি
- মরা মুরগি চুন দিয়ে পোঁতা বা পোড়ানো
- বার্ড ফ্লু সন্দেহ হলে সাথে সাথে জানান