গরুর স্বাস্থ্য৩ মিনিটে পড়ুন
গাভীর দুধ জ্বর (মিল্ক ফিভার): শুরুর লক্ষণ, জরুরি করণীয় ও প্রতিরোধ
বাচ্চা দেওয়ার পরপর গাভী শুয়ে পড়লে দুধ জ্বর হতে পারে, ক্যালসিয়ামের অভাব যা কয়েক ঘণ্টায় মেরে ফেলতে পারে। আগেভাগে চেনা, করণীয় আর প্রতিরোধের উপায়।
নামে জ্বর হলেও দুধ জ্বর আসলে জ্বর নয়; শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত স্বাভাবিক বা কম থাকে। বাচ্চা দেওয়ার সময় রক্তের ক্যালসিয়াম হঠাৎ কমে গেলে এটা হয়, কারণ ওলান শাল দুধ বানাতে এত দ্রুত ক্যালসিয়াম টানে যে গাভীর শরীর তা জোগাতে পারে না। ক্যালসিয়াম ছাড়া হৃদপিণ্ডসহ কোনো মাংসপেশি কাজ করে না, তাই গাভী দুর্বল হয়ে শুয়ে পড়ে।
কোন গাভীর ঝুঁকি বেশি?
- তৃতীয় বা তার পরের বাচ্চা দেওয়া গাভী
- বেশি দুধের গাভী, বিশেষ করে শংকর
- বাচ্চা দেওয়ার সময় বেশি মোটা গাভী
- আগে দুধ জ্বর হয়েছে এমন গাভী
- বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে বাচ্চা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, প্রায়ই প্রথম দিনেই
ধাপে ধাপে লক্ষণ
| ধাপ | কী দেখবেন |
|---|---|
| ১. শুরু | অস্থির, কাঁপুনি, পা শক্ত, খাওয়া বন্ধ, দাঁত কিড়মিড় করতে পারে; তখনো দাঁড়িয়ে |
| ২. শুয়ে পড়া | বুকে ভর দিয়ে শুয়ে, উঠতে পারে না, মাথা পেটের দিকে ঘোরানো, কান ঠান্ডা, নাক শুকনো, গোবর বন্ধ |
| ৩. গুরুতর | এক পাশে কাত হয়ে পড়ে থাকা, পেট ফাঁপা, প্রায় সাড়া নেই; কয়েক ঘণ্টায় মৃত্যু হতে পারে |
চিকিৎসা যত আগে, বাঁচার সম্ভাবনা তত বেশি। ১ম বা ২য় ধাপে চিকিৎসা পেলে গাভী সাধারণত দ্রুত সেরে ওঠে।
করণীয়: এটা জরুরি অবস্থা
- সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক ডাকুন। প্রচলিত চিকিৎসা হলো শিরায় ধীরে ধীরে ক্যালসিয়াম দেওয়া, আর তা প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকেই দিতে হবে: খুব দ্রুত ক্যালসিয়াম দিলে হৃদপিণ্ড থেমে যেতে পারে।
- অপেক্ষার সময় খড়ের আঁটি বা বস্তা দিয়ে গাভীকে বুকে ভর দিয়ে বসিয়ে রাখুন, মাথা এক পাশে ঘোরানো। এতে পেট ফাঁপা ও পেটের জিনিস শ্বাসনালীতে যাওয়া ঠেকানো যায়।
- শুয়ে থাকা গাভীর মুখে পানি বা ওষুধ ঢালবেন না; গলায় আটকে যেতে পারে।
- ছায়ায়, নরম শুকনো বিছানায় রাখুন; শুয়েই থাকলে কয়েক ঘণ্টা পর পর পাশ বদলে দিন।
- চিকিৎসার পরে মুখে খাওয়ানোর ক্যালসিয়াম আর পরের এক-দুই দিন কতটা দোহন করবেন, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন।
প্রতিরোধ শুরু হয় দুধ শুকানোর সময় থেকে
- দুধ শুকানো ও বাচ্চা দেওয়ার সময় গাভীর শরীর মাঝারি রাখুন, রোগাও নয়, মোটাও নয়।
- বাচ্চা দেওয়ার আগের শেষ ৩ সপ্তাহের খাবার খেয়াল করুন। এ সময় বেশি ক্যালসিয়াম (যেমন প্রচুর ডালজাতীয় ঘাস বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট) দিলে দুধ জ্বর বেশি হয়, কারণ শরীর নিজের ক্যালসিয়াম ছাড়ার ব্যবস্থা "বন্ধ" করে দেয়। প্রসবের কাছাকাছি শুকনো গাভীর খাবার ঠিক করতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
- ভালো মানের আঁশজাতীয় খাবার আর ঠিক খনিজ দিন; ক্যালসিয়ামের ভারসাম্যে ম্যাগনেসিয়াম জরুরি।
- বেশি ঝুঁকির গাভীর জন্য বাচ্চা দেওয়ার সময় আর ১২–২৪ ঘণ্টা পরে মুখে খাওয়ানোর ক্যালসিয়াম (জেল বা বোলাস) নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
- বাচ্চা দেওয়ার পর গাভী যেন ভালোভাবে খায়: পরিষ্কার পানি, টাটকা খাবার, আরামদায়ক প্রসবের জায়গা।
সাথে আসা সমস্যা
দুধ জ্বর হওয়া গাভীর পরের কয়েক সপ্তাহে ফুল আটকে যাওয়া, জরায়ুর সংক্রমণ, ওলান ফোলা আর পাকস্থলী সরে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। কাছ থেকে নজর রাখুন, যেকোনো সমস্যা লিখে রাখুন।
রেকর্ড দিয়ে আগাম প্রস্তুতি
FarmFlows-এর প্রজনন পাতায় প্রতিটি গাভিন গাভীর সম্ভাব্য বাচ্চা দেওয়ার আর দুধ শুকানোর তারিখ দেখা যায়। বেশি ঝুঁকির গাভীর (বয়স্ক, বেশি দুধের, বা আগে দুধ জ্বর হয়েছে) নোটে চিহ্ন দিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকুন, আর প্রতিটি ঘটনা স্বাস্থ্য পাতায় লিখুন, যাতে পরের বার কোন গাভীর দিকে নজর দিতে হবে জানা থাকে।
সংক্ষেপে চেকলিস্ট
- বাচ্চা দেওয়ার পর ৩ দিন ঝুঁকির গাভীর দিকে কড়া নজর
- কাঁপুনি, শুয়ে পড়া, মাথা পেটের দিকে, কান ঠান্ডা = এখনই চিকিৎসক
- শুয়ে পড়া গাভীকে বুকে ভর দিয়ে বসান; মুখে কিছু নয়
- শিরায় ক্যালসিয়াম শুধু প্রশিক্ষিত ব্যক্তি দেবেন
- মাঝারি শরীর আর প্রসবের আগের সুষম খাবার
- চিকিৎসকের পরামর্শে ঝুঁকির গাভীকে প্রসবের সময় মুখে ক্যালসিয়াম