← ব্লগ

গরুর স্বাস্থ্য৩ মিনিটে পড়ুন

নবজাতক বাছুরের যত্ন: শাল দুধ ও জীবন-নির্ধারণী প্রথম ২৪ ঘণ্টা

বাছুর জন্মায় প্রায় কোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছাড়াই। কতটা শাল দুধ, কত তাড়াতাড়ি দেবেন, নাভির যত্ন আর বাছুর বাঁচিয়ে রাখার প্রতিদিনের রুটিন।

বাছুর মারা যাওয়ার বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে, সাধারণত পাতলা পায়খানা বা নিউমোনিয়ায়। সুখবর হলো, সবচেয়ে বড় সুরক্ষার কোনো খরচ নেই। সেটা মায়ের প্রথম দুধ, শাল দুধ, দ্রুত ও ঠিক পরিমাণে খাওয়ানো।

শাল দুধ কেন এত জরুরি

বাছুর জন্মায় রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি ছাড়া। শাল দুধে এই অ্যান্টিবডি ভরপুর, আর বাছুরের পেট সেগুলো শুধু জন্মের পরের অল্প সময়েই শুষে নিতে পারে: প্রথম কয়েক ঘণ্টায় সবচেয়ে ভালো, আর প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ক্ষমতা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শাল দুধ শক্তি, ভিটামিন আর উষ্ণতাও দেয়।

ঘন বা হলুদ দেখে প্রথম দুধ কখনো ফেলে দেবেন না। এটাই বাছুরের প্রথম টিকা।

শাল দুধের নিয়ম: দ্রুত, পর্যাপ্ত, পরিষ্কার

কখনকতটা
জন্মের ১–২ ঘণ্টার মধ্যেবাছুরের ওজনের প্রায় ৫%
জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যেআবার ওজনের ৫%

অর্থাৎ ২৫ কেজির দেশি বাছুরের প্রথমবার প্রায় সোয়া লিটার আর ১২ ঘণ্টার মধ্যে আবার ততটা লাগবে; ৪০ কেজির শংকর বাছুরের প্রতিবার প্রায় ২ লিটার। দুর্বল বাছুরকে পরিষ্কার বোতলে সাহায্য করে খাওয়াতে হতে পারে। মায়ের দুধ না থাকলে বা ওলান ফোলা হলে খামারের অন্য সদ্য প্রসূত গাভীর শাল দুধ দিন (জরুরি অবস্থার জন্য কিছু ফ্রিজে জমিয়ে রাখুন)।

জন্মের ঠিক পরে

  1. নাক ও মুখের শ্লেষ্মা পরিষ্কার করুন, যাতে বাছুর শ্বাস নিতে পারে।
  2. মাকে বাছুর চাটতে দিন, বা পরিষ্কার খড় বা তোয়ালে দিয়ে ঘষে শুকান। এতে শরীর গরম হয়, রক্ত চলাচল বাড়ে।
  3. জন্মের পরপরই আর পরদিন আবার নাভি আয়োডিন দ্রবণে ডুবিয়ে দিন। নাভির সংক্রমণ থেকেই প্রায়ই গিঁট ফোলা ও রক্তের সংক্রমণ শুরু হয়।
  4. বাছুর দাঁড়িয়ে দুধ টানছে কি না নিশ্চিত হোন, নইলে নিজে শাল দুধ খাওয়ান।
  5. বাছুরকে বাতাসের ঝাপটা থেকে দূরে পরিষ্কার, শুকনো বিছানায় রাখুন।

প্রথম দুই মাস

  • দুধ: দিনে ওজনের প্রায় ১০%, প্রতিদিন একই সময়ে দুই ভাগে। বোতল ও বালতি পরিষ্কার রাখুন।
  • পানি: প্রথম সপ্তাহ থেকেই পরিষ্কার পানি। অনেক খামারি যতটা ভাবেন, বাছুর তার চেয়ে বেশি পানি খায়।
  • কাফ স্টার্টার ও নরম ঘাস: দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে অল্প অল্প দিন। আগে শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করলে পাকস্থলী বাড়ে, দুধ ছাড়ানোও সহজ হয়।
  • দুধ ছাড়ানো: অনেক খামারে প্রায় ২–৩ মাসে, যখন বাছুর ভালোভাবে শক্ত খাবার খায়।
  • কৃমিনাশক: প্রথম মাসে, তারপর চিকিৎসকের পরামর্শমতো।
  • ট্যাগ: ৭ দিনের মধ্যে কানে ট্যাগ পরিয়ে রেকর্ডে তুলুন।

বিপদের লক্ষণ: চিকিৎসক ডাকুন

  • পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, বিশেষ করে চোখ বসে গেলে (পানিশূন্যতা)
  • দ্রুত শ্বাস, কাশি বা নাক দিয়ে পানি
  • নাভি ফোলা, গরম বা দুর্গন্ধ
  • দুধ না খাওয়া বা দাঁড়াতে না পারা

পাতলা পায়খানা হলে চিকিৎসক আসা পর্যন্ত দুধের ফাঁকে ফাঁকে খাবার স্যালাইন দিতে থাকুন। কয়েক দিনের জন্য দুধ পুরো বন্ধ করবেন না; বাছুরের শক্তি দরকার।

বাছুর সুস্থ রাখার ঘর

  • শুকনো মেঝে ও বিছানা, ঘন ঘন বদলানো
  • তাজা বাতাস, কিন্তু বাছুরের উচ্চতায় ঠান্ডা ঝাপটা নয়
  • প্রথম কয়েক সপ্তাহ বাছুরের আলাদা খোঁয়াড়, যাতে রোগ না ছড়ায়
  • প্রতিবার ব্যবহারের পর খাওয়ানোর পাত্র পরিষ্কার

প্রথম দিন থেকেই রেকর্ড

FarmFlows-এ প্রজনন পাতায় বাছুর হওয়ার তথ্য লিখুন; সেখানেই ট্যাগ দিয়ে বাছুর যোগ করা যায়, মা ও বাবার সম্পর্ক নিজে থেকেই বসে যায়। বাছুর বাড়ার সাথে ওজন যোগ করুন আর যেকোনো চিকিৎসা স্বাস্থ্য পাতায় লিখুন। ভালো রেকর্ডে বোঝা যায় কোন বাছুর পিছিয়ে পড়ছে।

সংক্ষেপে চেকলিস্ট

  • ১–২ ঘণ্টার মধ্যে ওজনের ৫% শাল দুধ, ১২ ঘণ্টার মধ্যে আবার
  • জন্মের সময় ও পরদিন নাভিতে আয়োডিন
  • পরিষ্কার, শুকনো, ঝাপটাহীন খোঁয়াড়
  • দিনে ওজনের প্রায় ১০% দুধ, ১–২ সপ্তাহ থেকে পানি ও স্টার্টার
  • ৭ দিনের মধ্যে ট্যাগ ও রেকর্ড

খামারের সব হিসাব এক জায়গায় রাখুন

FarmFlows-এ বিনামূল্যে দুধ, স্বাস্থ্য, প্রজনন ও টাকার হিসাব রাখুন।

বিনামূল্যে শুরু করুন