গরুর স্বাস্থ্য৩ মিনিটে পড়ুন
ওলান ফোলা রোগ ঠেকান শুরুতেই: পরিষ্কার দোহনের ৮টি ধাপ
দুগ্ধ খামারে সবচেয়ে বেশি টাকা নষ্ট করে ওলান ফোলা। সহজ পরীক্ষায় লুকানো রোগ ধরা আর ওলান সুস্থ রাখার ৮ ধাপের দোহন নিয়ম জানুন।
ওলান ফোলা (ম্যাস্টাইটিস) হলো ওলানের জীবাণু সংক্রমণ। খামারিরা সাধারণত তখনই টের পান, যখন বাঁট গরম ও ফোলা হয় বা দুধে দলা দেখা যায়। কিন্তু চোখে দেখা যায় এমন প্রতিটি গাভীর পাশাপাশি আরও কয়েকটি গাভীর লুকানো সংক্রমণ থাকে: দুধ দেখতে স্বাভাবিক, কিন্তু দুধ কম হয়, আর হাত ও কাপড়ের মাধ্যমে জীবাণু অন্য গাভীতে ছড়ায়।
ওলান ফোলায় আসলে কত ক্ষতি
- আক্রান্ত বাঁটের দুধ কমে যায়, প্রায়ই পুরো দুধের মৌসুম জুড়ে
- চিকিৎসার সময় ও ওষুধের পরে নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত দুধ ফেলে দিতে হয়
- ওষুধ ও চিকিৎসকের খরচ
- একটা বাঁট চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে; বেশি আক্রান্ত গাভী অনেক সময় আগেভাগে বিক্রি করতে হয়
এর যেকোনোটার চেয়ে প্রতিরোধের খরচ অনেক কম।
কীভাবে ছড়ায়
জীবাণু ঢোকে বাঁটের ছিদ্র দিয়ে। আসে এসব থেকে:
- নোংরা হাত, সবার জন্য একটা কাপড় বা নোংরা দোহনের বালতি
- ভেজা, কাদা মেঝে বা ওলানে লেগে থাকা গোবর
- আক্রান্ত গাভী আগে, সুস্থ গাভী পরে দোহন
- বাঁটে আঘাত বা ফাটা চামড়া
দোহনের পর প্রায় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা বাঁটের ছিদ্র খোলা থাকে। এই সময়ে গাভী নোংরা মেঝেতে শুয়ে পড়লে জীবাণু সরাসরি ঢুকে যায়।
লুকানো রোগ ধরুন: স্ট্রিপ কাপ ও CMT
- স্ট্রিপ কাপ: প্রতিটি বাঁটের প্রথম ২–৩ ধারা দুধ কালো কাপড় বা স্ট্রিপ কাপে ফেলুন। ছানা, দলা বা পানির মতো দুধ মানে ওলান ফোলা।
- ক্যালিফোর্নিয়া ম্যাস্টাইটিস টেস্ট (CMT): পশুর ওষুধের দোকানে সস্তায় প্যাডেল ও রিএজেন্ট পাওয়া যায়। প্রতিটি বাঁটের দুধ আর রিএজেন্ট সমান মেশান; জেলির মতো ঘন হলে সেই বাঁটে লুকানো সংক্রমণ আছে। মাসে একবার সব গাভী আর বাচ্চা দেওয়ার পর প্রতিটি গাভী পরীক্ষা করুন।
দোহনের ৮টি ধাপ
- হাত ধুয়ে শুকান। নখ ছোট রাখুন। গ্লাভস পরলে আরও ভালো।
- প্রতিবার একই ক্রমে দোহন করুন: আগে সুস্থ কম বয়সী গাভী, তারপর বয়স্ক গাভী, আর আক্রান্ত বা চিকিৎসাধীন গাভী সবার শেষে।
- প্রতিটি বাঁটের প্রথম দুধ স্ট্রিপ কাপে দেখুন।
- শুধু বাঁট পরিষ্কার করুন, পুরো ওলান ভেজাবেন না; ওলান বেয়ে পানি নামলে ময়লা বাঁটে চলে আসে।
- প্রতিটি গাভীর জন্য আলাদা কাপড় বা কাগজের তোয়ালে দিয়ে মুছুন। পুরো পালের জন্য এক কাপড় এক গাভী থেকে আরেক গাভীতে রোগ ছড়ায়।
- পুরো হাত দিয়ে দোহন করুন, ওপর থেকে নিচে চেপে। দুই আঙুলে বাঁট টেনে দোহন করবেন না: এতে বাঁটে আঘাত লাগে।
- দোহনের পরে বাঁট ডিপ করুন টিট ডিপ দ্রবণে (আয়োডিনযুক্ত ডিপ বেশি চলে), যাতে প্রতিটি বাঁটের মাথা ঢেকে যায়।
- গাভীকে ৩০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখুন: দোহনের পরপরই টাটকা খাবার দিন, যাতে শোয়ার আগে বাঁটের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়।
গোয়ালঘরকে সাহায্যকারী বানান
- দিনে অন্তত দুবার মেঝের গোবর পরিষ্কার করুন; বিছানা শুকনো রাখুন।
- খসখসে মেঝে আর ধারালো কোণা মেরামত করুন, যাতে বাঁট না কাটে।
- শংকর গাভীর ওলানের চারপাশের লম্বা লোম ছেঁটে দিন।
- প্রতি দোহনের পর বালতি ও ক্যান গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকান।
গাভীর ওলান ফোলা হলে
- দেরি না করে চিকিৎসক ডাকুন। প্রথম দিনেই চিকিৎসা শুরু হলে দ্রুত সারে।
- ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করুন এবং লেবেলে লেখা দুধ ফেলে দেওয়ার সময় মেনে চলুন। অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত দুধ বিক্রি অনিরাপদ ও বেআইনি।
- দুধ শুকানোর সময় ড্রাই কাউ থেরাপি নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন; লুকানো সংক্রমণ সারানোর সেরা সময় এটাই।
- যে গাভী বারবার ওলান ফোলায় ভোগে, সে আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করাতে পারে; বাদ দেওয়ার কথা ভাবুন।
প্রতিটি ঘটনা লিখে রাখুন
FarmFlows-এ প্রতিটি ওলান ফোলার ঘটনা ও চিকিৎসা সেই গাভীর স্বাস্থ্য রেকর্ডে লিখুন। কোন গাভী, কোন বাঁট আর কোন মৌসুমে সমস্যা বেশি তা দ্রুত বোঝা যাবে, আর দুধের রেকর্ডে আগে-পরের দুধের পরিমাণও দেখা যাবে।
সংক্ষেপে চেকলিস্ট
- প্রতি দোহনে স্ট্রিপ কাপ, মাসে একবার CMT
- পরিষ্কার হাত, প্রতি গাভীর আলাদা কাপড়, পুরো হাতে দোহন
- দোহনের পর টিট ডিপ, ৩০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা
- আক্রান্ত গাভী সবার শেষে
- দুধ ফেলার সময় মানুন; প্রতিটি ঘটনা রেকর্ড করুন